1 উত্তর
স্বল্প দূরত্বে ডাটা আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত একটি ওপেন ওয়্যারলেস প্রটোকল হচ্ছে ব্লুটুথ। ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে যোগাযোগের জন্য ব্লুটুথ একটি উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। ব্লুটুথের কার্যকর পরিসর হচ্ছে ১০ মিটার। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এর স্ট্যান্ডার্ড হচ্ছে IEEE 802.15.1; এটি বর্তমানকালে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হচ্ছে মোবাইলে। এ ছাড়া ডেক্সটপ, ল্যাপটপ, পিডিএ, ডিজিটাল ক্যামেরা, স্ক্যানার, প্রিন্টার, হ্যাডফোন বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার বিদ্যমান।
১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে RS-232 ডাটা কেবলের বিকল্প হিসেবে ব্লুটুথ টেকনোলজি উদ্ভাবন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পায় ১৯৯৮ সালের ৭ মে। সেদিন কিছু গ্রুপ অব কম্পানি একসঙ্গে ব্লটুথ টেকনোলজি নিয়ে কাজ করতে সম্মত হয়। পরবর্তী সময়ে এই কম্পানিগুলোই Bluetooth Special Interest Group (SIG) নামের একটি সংগঠন গড়ে তোলে, যার লক্ষ্য ছিল ব্লুটুথ টেকনোলজি নিয়ে কাজ করা। ব্লুটুথের নামকরণ হয় দশম শতাব্দীর ডেনমার্কের রাজা হারাল্ড ব্লুটুথের নামানুসারে।
ব্লুটুথের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি স্বল্প দূরত্বে দুটি ডিভাইসের মধ্যে ডাটা স্থানান্তরে ২.৪ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সির রেডিও তরঙ্গ ব্যবহার করে। এর ডাটা ট্রান্সমিশন রেট প্রায় 1Mbps বা তার চেয়ে বেশি। ব্লুটুথ দিয়ে তৈরি নেটওয়ার্ককে পিকোনেট বলে। ব্লুটুথ পিকোনেটের আওতায় সর্বোচ্চ আটটি যন্ত্রের সঙ্গে সিগন্যাল আদান-প্রদান করতে পারে। এর মধ্যে একটি মাস্টার ডিভাইস এবং বাকিগুলো স্লেভ ডিভাইস হিসেবে কাজ করে। অনেক পিকোনেট মিলে আবার স্ক্যাটারনেট গঠিত হতে পারে। ডাটা ট্রান্সমিশন মোড হাফ ডুপ্লেক্স।
ব্লুটুথের কাজ হচ্ছে ফোন থেকে কম্পিউটারে ফাইল স্থানান্তর বা ফোনের সঙ্গে তারবিহীন হেডসেটে সাউন্ড বা ভয়েস ডাটা স্থানান্তর করা। ব্লুটুথ ব্যবহার করে কম্পিউটারের সঙ্গে অন্যান্য ডিভাইসের সংযোগ ঘটানো যায় এবং তথ্য আদান-প্রদান করা যায়। এ ছাড়া জিপিএস রিসিভার, চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, বারকোড স্ক্যানার ও ট্রাফিক কন্ট্রোল ডিভাইসগুলোতে ব্লুটুথ ব্যবহৃত হয়।
এখানে প্রকাশিত প্রশ্ন ও উত্তরের দায়ভার কেবল সংশ্লিষ্ট প্রশ্নকর্তা ও উত্তর দানকারীর৷ কোনপ্রকার আইনি সমস্যা সবজানো.কম বহন করবে না৷
...